পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেমন লক্ষী ভান্ডার প্রকল্প চালু করে সারা রাজ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন ঠিক একই রকম ভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বহু আলোচিত বাংলার যুবসাথী প্রকল্প (Yuva Sathi Scheme) নিয়ে সামনে এল বড় আপডেট। এই প্রকল্প লক্ষ্মী ভান্ডারের থেকে বেশি জনপ্রিয় প্রকল্প হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সকলেই। রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পে দেড় হাজার করে টাকা দেওয়ার মাধ্যমে রাজ্যের বেকারেরা ভীষণভাবে উপকৃত হবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা পাবেন।

রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যারা অফলাইনে আবেদন জমা দিয়েছেন তাদের জন্য একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আপনিও যদি অফলাইনের মাধ্যমে আবেদন পত্র জমা দিয়ে থাকেন তাহলে সুখবর। এই নির্দেশিকায় আবেদনপত্রের ডেটা এন্ট্রি, ডিজিটাইজেশন, স্টেটাস চেক এবং টাকা পাওয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, যদি সমস্ত প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়, তাহলে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো শুরু হতে পারে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে সামনে মাসেই ব্যাংক একাউন্টের টাকা আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প

রাজ্যে বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতী দীর্ঘদিন ধরে চাকরির জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু রাজ্যে যে তুলনায় বেকার রয়েছে সেই তুলনায় চাকরির পরিমাণ খুবই কম বা চাকরি নেওয়া হচ্ছে না অনেকদিন ধরেই। অনেকেই পড়াশোনা শেষ করেও স্থায়ী কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না। এর ফলে বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং হীনমন্যতায় ভুগছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার বেকার যুবকদের কিছুটা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুবসাথী প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার মূলত তিনটি লক্ষ্য পূরণ করতে চায়—

  • বেকার যুবকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান
  • চাকরি খোঁজার সময় সাময়িক অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া
  • যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের জন্য উৎসাহিত করা

এই উদ্যোগকে অনেকেই রাজ্যের যুবকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প হিসেবেও দেখছেন।

অফলাইন আবেদনের ডিজিটাইজেশন শুরু

যুবসাথী প্রকল্পের জন্য বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। অনেক আবেদনকারী সরাসরি ক্যাম্প বা সরকারি অফিসে গিয়ে অফলাইন ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। যারা যারা অফলাইনে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন তাদের জন্য এবার সুখবর। অবশেষে শুরু হচ্ছে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া। অর্থাৎ আপনারা যারা আবেদন পত্র জমা দিয়েছিলেন তাদের আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া বা অনলাইনের মাধ্যমে ফরম ফিলাপ চলছে।

এই সমস্ত অফলাইন আবেদনপত্রকে এখন অনলাইন পোর্টালে আপলোড করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত এই ডেটা এন্ট্রি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। খুব দ্রুতই আর ডেটায়েন্ট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে রাজ্য সরকার।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী—

  • গ্রামীণ এলাকার আবেদনপত্র ব্লক অফিসে আপলোড করা হবে
  • শহরাঞ্চলের আবেদনপত্র মহকুমা শাসকের (SDO) দপ্তরে আপলোড করা হবে
  • কলকাতা শহরের আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট বরো অফিসে ডিজিটাইজ করা হবে

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্ত অফলাইন আবেদনকে কেন্দ্রীয় পোর্টালে যুক্ত করা হবে।

কখন নেওয়া হয়েছিল আবেদন

যুবসাথী প্রকল্পের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে। এই আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া চলেছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সমগ্র রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি অনলাইন পদ্ধতিতেও আবেদন গ্রহণ করা হয়। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক লক্ষ নয়—বরং লক্ষ লক্ষ আবেদনপত্র জমা পড়েছে এই প্রকল্পে।

ডেটা এন্ট্রির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা

অফলাইন আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ডেটা এন্ট্রি বা ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া।

রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী—

  • সমস্ত অফলাইন ফর্ম ১৫ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে পোর্টালে আপলোড করতে হবে তাই খুব দ্রুতই ডাটা এন্ট্রির কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য তীব্র গতিতে ফরম ফিলাপ করা
  • প্রতিটি আবেদনপত্রের তথ্য ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষণ করা হবে এর ফলে কারো যদি পরবর্তীকালে কোন সমস্যা হয় খুব সহজেই সমাধান করা যাবে।
  • আবেদনকারীদের জমা দেওয়া নথি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে

এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করা হয়েছে।

কোন কোন নথি আপলোড করতে হবে

ডেটা এন্ট্রি করার সময় আবেদনকারীদের জমা দেওয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি স্ক্যান করে আপলোড করা হবে।

এই নথিগুলির মধ্যে রয়েছে—

  • আধার কার্ড
  • ভোটার আইডি কার্ড
  • ব্যাঙ্কের পাশবই
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র

এই সমস্ত নথি যাচাই করার পরেই আবেদনকারীদের প্রকল্পের জন্য যোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে।

কবে থেকে স্টেটাস চেক করা যাবে

যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল—আবেদনের স্টেটাস কবে দেখা যাবে?

সরকারি নোটিশ অনুযায়ী, অফলাইন আবেদনপত্রের ডেটা এন্ট্রি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই স্টেটাস চেক করার সুযোগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এখনো পর্যন্ত ডাটা এন্ট্রি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি, ডেটা এনটি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই আপনারা অনলাইনে চেক করে দেখে নিতে পারবেন আপনাদের স্ট্যাটাস।

সম্ভাব্য টাইমলাইন

প্রক্রিয়া সম্ভাব্য সময়
অফলাইন আবেদন জমা ১৫ ফেব্রুয়ারি – ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডেটা এন্ট্রি ও ডিজিটাইজেশন ১৫ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে
স্টেটাস চেক শুরু ১৫ মার্চের পর
টাকা বিতরণ শুরু ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে (সম্ভাব্য)

এই সময়সূচি অনুযায়ী আবেদনকারীরা মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে নিজেদের আবেদনপত্রের অবস্থা জানতে পারবেন।

কখন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, সমস্ত যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে টাকা পাঠানো শুরু হতে পারে। অর্থাৎ চলতি মাসের শেষেই আপনারা সামনে মাস থেকেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়ে যাবেন।

এই টাকা সরাসরি DBT (Direct Benefit Transfer) পদ্ধতিতে উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

এর ফলে মধ্যস্থতাকারীর কোনো ভূমিকা থাকবে না এবং পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকবে।

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন

রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের সুবিধা মূলত ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের দেওয়া হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় আসতে হলে আবেদনকারীকে—

  • পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
  • বেকার হতে হবে
  • নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে

তবে চূড়ান্ত যোগ্যতার নিয়মাবলী শীঘ্রই বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হবে।

শীঘ্রই আসছে নতুন গাইডলাইন

এই প্রকল্প নিয়ে অনেকের মধ্যে কিছু প্রশ্ন বা বিভ্রান্তি রয়েছে। বিশেষ করে যারা ইতিমধ্যেই অন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তারা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন কি না—তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

এই বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য রাজ্য সরকার খুব শীঘ্রই একটি বিস্তারিত Standard Operating Procedure (SOP) প্রকাশ করতে চলেছে।

এই গাইডলাইনে স্পষ্ট করে জানানো হবে—

  • কারা প্রকল্পের জন্য যোগ্য
  • কারা অযোগ্য
  • আবেদন যাচাইয়ের পদ্ধতি
  • টাকা বিতরণের নিয়ম

প্রশাসনের জোর প্রস্তুতি

অফলাইন আবেদনপত্র দ্রুত ডিজিটাইজ করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি ব্লক ও প্রশাসনিক ইউনিটে অতিরিক্ত ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করা হচ্ছে।

তাদের প্রতিটি ফর্ম আপলোড করার জন্য নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক দেওয়া হবে।

এই উদ্যোগের ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ আবেদনপত্র ডিজিটাল পোর্টালে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবসাথী প্রকল্প রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবকদের সাময়িক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের অনেক সুবিধা হবে। অনেক বেকার যুবক যুবতী পড়াশুনার জন্য বা সরকারি চাকরির জন্য বাইরে থেকে প্রস্তুতি নেন এক্ষেত্রে তাদের বিশেষ সুবিধা হবে।

বর্তমানে অফলাইন আবেদনপত্রের ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয়, তাহলে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হতে পারে

তাই যারা আবেদন করেছেন তাদের উচিত নির্দিষ্ট সময়ের পর নিজেদের আবেদনপত্রের স্টেটাস চেক করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আপডেট রাখা। আপনারা অনলাইনের মাধ্যমে এই অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করে দেখে নিতে পারবেন।